Category: ডিজিটাল মার্কেটিং

  • ব্র্যান্ডিং কী?

    ব্র্যান্ডিং কী?

    বিজনেস করতে এসে আমরা সবচেয়ে বেশি যে শব্দটা শুনি সেটা হচ্ছে “ ব্র্যান্ডিং ”।

    ইন্ডাস্ট্রির মেন্টর থেকে শুরু করে মার্কেটার সকলেই কিন্তু এটার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সকলেই নিজ নিজ বিজনেসের ব্র্যন্ডিং করার কথা বলেন। কিন্তু আমরা অনেকেই ব্র্যান্ডিং কী জানিনা ও ব্র্যান্ডিং কেন জরুরী বুঝিনা। আজ আমরা ব্র্যান্ডিং কী ও কেন জরুরী সে সম্পর্কে জানব। 

    আহামরি পারিভাষিক কথাবার্তায়  না গিয়ে যদি খুব সাধারণ ভাবে বলি তাহলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে আপনার নাম বিজনেস কিংবা প্রতিষ্ঠানকে সম পর্যায়ের আর দশজন থেকে বা দশটা বিজনেস ও প্রতিষ্ঠান থেকে সহজেই আলাদা করতে পারা বা আলাদা করার যে প্রক্রিয়া সেটাই হচ্ছে ব্র্যন্ডিং।  বিশেষজ্ঞদের ভাষায় , ব্র্যান্ডিং বলতে এমন কোনর নাম শব্দ ডিজাইন বা চিহ্ন বুঝায় যা একজন মানুষকে বা প্রতিষ্ঠানকে আর দশজন থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করে।  

    উদাহরণ স্বরুপ বলি, ইউটিউবে ঢুকার সাথেসাথে ফুডপান্ডার আ্যাডে বিরক্ত হননি এমন মানুষ খুব কম আছে। কিন্তু এই আ্যাড দেখিয়ে তারা কী পরিমাণ ব্র্যান্ডিং করেছেন জানেন? জরিপ বলছে  বর্তমান সময়ে অনলাইনে ফুড ডেলিভারির অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান থাকা সত্বেও  অনলাইনে ফুড কেনার কথা মনে পড়লে সবার আাগে যাদের কথা মনে পড়ে সেটা হচ্ছে ফুডপান্ডা। কেন এমন হয়? কারণ অনলাইন অফলাইনে তারা এমন ব্র্যান্ডিং করেছে যে অনলাইনে খাবার অর্ডার করতে গেলেই আগে ফুডপান্ডার কথা মাথায় আসে। 

    আবার দেখেন বর্তমানে অনেকগুলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আছে কিন্তু টাকা পাঠানোর দরকার হলে আমরা কিন্তু অধিকাংশ বিকাশের দ্বারস্থ হই। বিকাশ তাদের ব্র্যন্ডিংটা এমন ভাবে করেছে যে মানুষ বলেনা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাবো । বরং ডিরেক্ট বিকাশ করব বলে । বিকাশ একটা নামবাচক শব্দ ছিল । সেটা ক্রিয়াবাচক শব্দে রুপান্তর হয়ে গেছে শুধু ব্র্যন্ডিং পাওয়ারের কারণে।  

    আশা করছি দুটো উদাহরণে বুঝতে পেরেছেন ব্র্যন্ডিং কী। আপনার বিজনেস নিয়ে যদি সিরয়াস থাকেন এবং সেটিকে বড় করতে চান দীর্ঘমেয়াদী করতে চান  তবে অবশ্যই আপনাকে ব্র্যন্ডিং করতে হবে। ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ইনভেষ্ট করতে হবে। 

  • ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে উদ্যোক্তাদের সফল হতে সাহায্য করে?

    ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে উদ্যোক্তাদের সফল হতে সাহায্য করে?

    বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং প্রসার ঘটানোর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অপরিহার্য কৌশল। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি সঠিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ডিজিটাল মার্কেটিং শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যম নয়, এটি ব্র্যান্ড গঠনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আসুন জেনে নেই, কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় উন্নতি আনতে সাহায্য করে।


    ১. সঠিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো

    ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য বা সেবা সরাসরি লক্ষিত গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, গুগল অ্যাডসের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন চালিয়ে নির্দিষ্ট বয়স, আগ্রহ, লোকেশন অনুযায়ী গ্রাহকদের টার্গেট করা যায়। ফলে বাজেটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

    ২. ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বৃদ্ধি করা

    একটি শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতি থাকলে ব্র্যান্ডটি সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে। নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্লগ কন্টেন্ট, ইমেইল মার্কেটিং এবং SEO অপটিমাইজড ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের ব্র্যান্ডের সচেতনতা বাড়াতে পারেন।

    ৩. খরচ-সাশ্রয়ী মার্কেটিং সমাধান

    ট্রাডিশনাল মার্কেটিং যেমন টিভি বা পত্রিকার বিজ্ঞাপনের তুলনায় ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বেশি বাজেট-সাশ্রয়ী এবং কার্যকর। কম খরচে ফেসবুক ও গুগল অ্যাডসের মাধ্যমে লক্ষিত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

    ৪. বিক্রয় ও লাভ বৃদ্ধি

    একটি সফল ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে এবং কনভার্সন রেট বাড়ায়। সঠিক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি যেমন SEO, কনটেন্ট মার্কেটিং, ইমেইল ক্যাম্পেইন, রিমার্কেটিং ইত্যাদির মাধ্যমে বিক্রয় কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

    ৫. গ্রাহকের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন

    সোশ্যাল মিডিয়া ও ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়, তাদের মতামত জানা যায় এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এই সরাসরি সংযোগ ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়ায়।

    ৬. প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা

    একই ধরনের ব্যবসা নিয়ে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে হলে আপডেটেড ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করতে হবে। ডাটা অ্যানালাইসিস, বিজ্ঞাপন অপ্টিমাইজেশন এবং নতুন ট্রেন্ড অনুসরণ করার মাধ্যমে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

    ৭. ডাটা-ড্রিভেন ডিসিশন নেওয়া

    ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ডাটা অ্যানালাইসিস সুবিধা। বিভিন্ন মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের পারফরম্যান্স দেখে সহজেই বোঝা যায় কোন কৌশল কার্যকর এবং কোথায় পরিবর্তন আনতে হবে। এটি ব্যবসায় উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসংহার

    একজন উদ্যোক্তা হিসেবে যদি আপনি আপনার ব্যবসাকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে চান, তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো সবচেয়ে ভালো সমাধান। এটি শুধু প্রচার নয়, বরং কাস্টমার এনগেজমেন্ট, ব্র্যান্ড বিল্ডিং, বিক্রয় বৃদ্ধি ও বাজারে স্থায়ীভাবে টিকে থাকার অন্যতম কৌশল। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে আপনার ব্যবসায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে ডিজিটাল মার্কেটিং।

    আপনার ব্যবসার জন্য উপযুক্ত ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল বেছে নিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন! 🚀